রোজায় খাবার তালিকা কেমন হওয়া উচিৎ!

Ad Blocker Detected

Our website is made possible by displaying online advertisements to our visitors. Please consider supporting us by disabling your ad blocker.

Iftar_Dish

শুরু হয়েছে সিয়াম সাধনার মাস রমজান। এ মাসে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য রোজা রাখা ফরজ। তবে এ সময় সুস্থ থাকতে খাওয়া-দাওয়ার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।

এবারের রমজানে আমাদের দেশে সাড়ে ১৪ ঘণ্টার বেশি না খেয়ে থাকতে হবে। যেহেতু স্বাভাবিক সময়ে আমরা ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পরপর খাবার খাই, তাই এ দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকায় প্রাথমিকভাবে কিছু সমস্যা হতে পরে। তাছাড়া এ সময় আবহাওয়া অপেক্ষাকৃত গরম থাকবে এবং বাতাসে আর্দ্রতাও থাকবে বেশি। এ কারণে রোজাদারদের পানিশূণ্যতা হওয়ার শংকা অনেক বেশি।

যারা রোজা রাখবেন তাদের সেহরিতে অবশ্যই বেশি করে পানি ও ফল খেতে হবে। এছাড়া যেসব খাবার হজম হতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয় যেমন- ডিম, দুধ, মাংসজাতীয় খাবার খেলে দিনের বেলা কষ্ট কম হবে। তবে সেহরিতে মিষ্টি জাতীয় খাবার না খাওয়াই উত্তম। সারাদিন না খাওয়ার ফলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরে পানিশূণ্যতার সৃষ্টি হবে।

তাই ইফতারিতে অবশ্যই বেশি করে পানি খেতে হবে। অনেকেই শরবত খেয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে কম চিনি দিয়ে লেবুর রস মিশ্রিত শরবত শরীরের জন্য ভালো। এছাড়া সারা দিনের ঘাটতি মেটাতে খিচুড়ি খাওয়া যাতে পারে। খেজুর বেশি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ভাজা-পোড়া খাবার যত কম খাওয়া যায় ততই মঙ্গল। অনেকে আছেন যারা স্বাভাবিক সময়ে তিন বেলা খাবার খেলেও রোজায় দুই বেলা খাবার অভ্যাস করেন। এটা মোটেও ঠিক নয়। রমজানেও তিনবারই (ইফতার সেহরির মাঝে সুবিধামতো সময়ে একবার) খাবার খেতে হবে। নয় তো শরীর খারাপ হওয়ার শংকা অনেক বেড়ে যাবে।

রোজায় সবচেয়ে সমস্যায় পড়েন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা। তাদের রোজার আগেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। যাদের ডায়াবেটিস গুরুতর এবং কিডনিতে সমস্যা রয়েছে- তারা ঝুঁকিতে রয়েছেন। এসব রোগী প্রায় সময় শেষ বিকালে বা দুপুরের পরে পানিশূণ্যতাজনিত সমস্যায় পড়েন।

ইফতারে ডায়াবেটিস রোগীদের অবশ্যই মিষ্টি জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে। শরবতের পরিবর্তে ডাবের পানি তাদের জন্য উপযোগী। কোনোভাবেই পায়েশ, ফিরনি ইত্যাদি খাওয়া যাবে না। এমনকি খেজুর, পেঁয়াজু, আলুর চপ বা বেগুনিও একটির বেশি নয়। ডায়াবেটিস রোগীরা সেহরি এমন সময় করবেন যাতে তার খাওয়া শেষ হতেই আজান হয়।

মনে রাখতে হবে- ইনসুলিন ৩ দশমিক ৯-এর নিচে গেলে বড় ধরনের শারীরিক বিপর্যয় এড়াতে ওই দিন রোজা না রাখাই ভালো হবে। ডা. শাহজাদা সেলিম, ডায়াবেটিস ও হরমোন বিশেষজ্ঞ।

Facebook Comments

Leave a Reply