চেন্নাই ভ্রমণ ও কিছু সতর্কতা

Ad Blocker Detected

Our website is made possible by displaying online advertisements to our visitors. Please consider supporting us by disabling your ad blocker.

লক্ষ্য করা যায় বাংলাদেশীদের মধ্যে ইদানীং চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়া বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এর মধ্যে চেন্নাই এপোলো হসপিটাল, ভেলরে খ্রিষ্টান মেডিকেল কলেজ, শঙ্করা নেত্রালয়া আই হসপিটাল বেশ জনপ্রিয়। কিছু টাকা জমিয়ে যে কেউ অনায়সে এখান থেকে চিকিৎসা করে আস্তে পারে। কিন্তু যারা নতুন বা যাওয়ার প্ল্যান করছেন তাদের জন্য কিছু সতর্কতা খেয়াল রাখতে হবে।

চেন্নাইতে সব থেকে সাবধানে থাকতে হবে আপনাদের অটো চালকদের হাত থেকে। এদের নেটওয়ার্ক অনেক বড় ও চিটিং ধরা খুব কঠিন হবে নতুন দের জন্য।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে দশটায় নামলাম চেন্নাই সেন্ট্রাল স্টেশনে। ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি ছিল আকাশে। সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলাম স্টেশন থেকে বের হয়ে ভালো দেখে একটা অটো নিবো। কিন্তু আমরা দশধাপ না যেতেই বেশ কয়েকজন অটো চালক আমাদের নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে, আমরা তাদের উপেক্ষা করে আগাতে থাকি। সাথে বয়স্ক বাবা-মা থাকায় লাগেজ নিয়ে এত দূর পথ যাওয়াটাও বেশ কষ্ট সাধ্য ছিল আমাদের জন্য। পরে এক অল্প বয়সী চালকের উপর বিশ্বাস করে উঠেে পরলাম অটো তে। কিন্তু সাথে চালকের পাশে কাঁধ মিলিয়ে উঠলো আরেকজন ছেলে। বেপারটা আমাদের তখন বেশ অস্বস্তিকর লাগছিল।

যায় হোক, আমরা বলে উঠেছিলাম আমাদের এপোলো হসপিটালের সামনে গ্রিমস রোডে নামিয়ে দেয়ার জন্য। ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি আর অন্ধকার নতুন জায়গা দিয়ে আমাদের অটো চলছিল। একটা সময় আমরা এপোলো হসপিটাল দেখে স্বস্তি পাই। কিন্তু তখনই কেন জানি অটো চালক তার গাড়ির গতি বাড়িয়ে দিল। আমরা থামতে বললে আমাদের উলটা পাল্টা কথা বুঝাতে থাকে। মুহূর্তেই তারা অন্য এক এলাকায় ধুকে এক গলির মধ্যে ডুকে পড়ে। রাত তখন ১১ঃ৩০মিঃ। অটো থেকে নামার পর আমাদের কাছে প্রায় ৮/১০ জন ছেলে চলে আসে। আমরা তাৎক্ষনিক বেশ ঘাবড়িয়ে যায় বেপারটা দেখে। বুঝলাম তারা খারাপ কেউ না, হোটেলের দালাল।

আমরা দুই তিনটা হোটেল দেখলাম কিন্তু কোন কিছুতেই পছন্দ হচ্ছিল না। ফলে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম অন্য এপোলোর সামনে যাই, ওখান থকে একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা যখন লাগেজ নিয়ে চলে যাচ্ছিলাম তখন তারা আমাদের নানা ভাবে আটকানোর চেষ্টা করছিলো। আমরা আর ভয় পেয়ে গেলাম।

এর মধ্যে দেখলাম, আরেকটা কলকাতার বাঙ্গালি পরিবার ও আমাদের মত ফিরে যাচ্ছে। আমি সেই দাদার সাথে আমার প্রব্লেমের কথা শেয়ার করতে গেলে আরেকটা অটো চালক আমার উপর মারমুখী হয়। সেখান থেকে সেই দাদা আমাকে সেফ করে।
তার পর দাদা বলল আপনারা আমার সাথে চলুন, যেখানে উঠবো এক সাথে উঠবো। দাদার সাথে ছিলেন উনার স্ত্রী, মা, শাশুড়ি আর এক বাচ্চা।

আমরা অনেক খুঁজাখুঁজি শুরু করি। কিন্তু যেখানেই যাচ্ছি সেখানেই কেন জানি ৭/৮ জনের এরকম দল বেরিয়ে আসছিল আমাদের দিকে। রাত তখন ১২টা।

এর পর ও আমরা বেশ কয়েকটা অটো চালকের কাছে বিভ্রান্তির শিকার হই। এলাকা ত্যগের সময় তারা আমদের পিছু ছাড়ছিল না। সেই এলাকা ছাড়ার আগে সেই অটো চালক আমাদের উদ্দেশে আজে বাজে কথা বলে, কিন্তু গোপালদা তাকেও উলটা গালি দিলে চালক পালিয়ে যায়।

তারপর অনেক খুজা খুজির পর ঘুমন্ত এলাকায় এক ছোট গেস্ট হাউজ আমদের আশ্রয় দেয়। রাত তখন ১ টা। রুমে ঢুঁকে আমদের গায়ে এক ফোটাও শক্তি ছিল না। ঘুমিয়ে পড়লাম, আর সকাল থেকে শুরু হল আমদের এপোলোর চিকিৎসা।

এপোলোর চিকিৎসার মান আমার কাছে ভালো লেগেছে। যে কয়দিন চেন্নাইতে ছিলাম অটো চালকদের কাছে আমরা নানা ভাবে প্রতারিত হয়েছি।

শেষ কথাঃ চেন্নাই এবং কলকাতায় এরকম অটো চালক আর রিক্সা চালক অনেক আছে। এরা কিছু অচল হোটেলের সাথে কমিশন ভিত্তিক চুক্তিবদ্ধ। এরা হয়ত আপনার উপর কোন আক্রমন বা ক্ষতি করবে না। তবে দুই এক কথা থেকে অনেক বড় কিছু তো হয়েও জেতে পারে তাইনা। যে কোন বিপদে আপনারা পুলিশের ভালো সহায়তা পাবেন।

 

লিখেছেন- Sharwar Kabir Dew

 

Facebook Comments

Leave a Reply